সংবাদ বিজ্ঞপ্তি :
যে কোন ধরনের মিউজিক ভিডিও, সাউন্ড রেকর্ড, ইসলামী সঙ্গীত, ওয়াজ মাহফিল ভিডিও এবং এডিটিং করার জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন- আজাদ খান, পরিচালক- একে ফিল্ম মাল্টিমিডিয়া, মোবা: 01878305010.
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দালালের দৌরাত্ম্য : দালাল মোহাম্মদ আলী সিন্ডিকেটের কারণে ভোগান্তিতে সেবাপ্রার্থীরা

টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দালালের দৌরাত্ম্য : দালাল মোহাম্মদ আলী সিন্ডিকেটের কারণে ভোগান্তিতে সেবাপ্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি::

টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে মো. আলী দালালের সিন্ডিকেটের হাতে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে। উক্ত দালাল মো. আলীর বিরুদ্ধে কক্সবাজার আদালতে দুইটি মামলা রুজু করেছে ভুক্তভোগীরা। এমন কি বিভিন্ন অনলাইন ও পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হলেও
অদৃশ্যের কারনে বহাল তবিয়তে রাজত্ব কায়েম করে যাচ্ছে দালাল মো. আলী ও তার ছেলে সোহাগ, অফিস কম্পিউটার মো. সাইদ।

এই সব
দালালদের বিষয়ে প্রথম দিকে লম্ফঝম্ফ করলেও কিছুদিনের মধ্যেই অদৃশ্য কারণে সব থেমে যায়। ভূমি অফিসের এমন কোনো কাজ নেই যা এই সব দালালদের জন্য সম্ভব নয়।
দালাল মো. আলী না ধরে সরাসরি অফিসে গেলে সাধারণ মানুষকে পোহাতে হয় নানা ভোগান্তি। এ কারণে কাজ উদ্ধারের স্বার্থে সাধারণ মানুষ দালালদের হাত ধরে বাহারছড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। আর এর মাধ্যমেই উক্ত ভূমি অফিসে ধীরে ধীরে ডালপালা বাড়ছে এই সব দালালদের। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে ভূমি অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ঘিরে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট। দালালদের প্রধান কর্তা হলেন মো. আলী, যাকে ঘিরে সক্রিয় রয়েছে তার ছেলে সোহাগ, অফিস কম্পিউটার মো. সাইদসহ ৪/৮ জন দালাল। দালালদের অনেকেই ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের চেয়ারে বসে কাজ করে। ভূমি অফিসের সব ধরনের কাজ নিজ হাতে করতে তাদের কোনো বাধা নেই। এ কারণে সাধারণ মানুষ ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে অফিসার ও দালালদের আলাদা করতে না পেরে প্রতারণার শিকার হয়ে থাকেন। অন্যদিকে ভূমি অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর কাছে সেবাপ্রত্যাশী মানুষ সহযোগিতা চাইলে তারা দালালদের কাছে পাঠিয়ে দেন। দালালদের সঙ্গে চুক্তি না করে ভূমি অফিসের সেবা পাওয়া দুষ্কর। বাহারছড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মো. আলী সিন্ডিকেটের দালালদের ব্যবহার করে নিজের পকেট ভারী করছেন বলে ভুক্তভোগী কয়েকজন অভিযোগে জানান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলা ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারী খতিয়ান সৃজন করা, নামজারী খতিয়ানের সহিমুহুরী উঠানো, খতিয়ানের খসড়া প্রদান, খাজনা প্রদান সহ নানান ধরণের কাজের কথা বলে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে মো. আলী সিন্ডিকেট।

অভিযুক্ত মো. আলী নিজেকে বাহারছড়া ভূমি অফিসের স্টাফ দাবি করে এইকাজে সেবা নিতে আসা সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে টাকা নেয়। অনেক সময় টেকনাফ ভূমি অফিসের বড় কর্তাদের ডান হাত বলে নিজেকে পরিচয় দেয়।
এছাড়া সার্ভেয়ার রুম, কানুনগোর টেবিল, অফিস সহকারীর টেবিল এবং সর্বোপরি সহকারী কমিশনার(ভুমি)অফিসারের টেবিলটাও তার দখলে বলে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে সেবা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

জানা যায়, জমি খারিজের জন্য ১ হাজার ২৫০ টাকা গ্রহণের নিয়ম থাকলেও এ কাজের জন্য দলিলপ্রতি সর্বনিু ২০-৩০ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয় বলে ভুক্তভোগীরা জানান। এছাড়া খাজনা পরিশোধ, মিসকেস, খাস পুকুর ইজারা, হিয়ারিং ইত্যাদি বিষয়ে মো. আলী দালাল নিয়ন্ত্রণ করে থাকে বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত ভূমি দালাল মোঃ আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। মোহাম্মদ আলী নিজেকে ভূমি অফিসে স্টাফ পরিচয় দিলেও সে একজল পেশাদার দালাল। ভূমি অফিসে নামজারী খতিয়ান করতে আসা সহজ-সরল সেবাপ্রার্থীদের লক্ষ্য করে টাকা হাতিয়ে নেয়।

এব্যাপারে অভিযুক্ত মোঃ আলী জানান, আমি কোন অপরাধী না, আমার বিরুদ্ধে এলাকার কিছু লোক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এবং ভূমি অফিসের কোন কর্মচারী ও স্টাফ নই। আমি একটি কোম্পানিতে কাজ করি।

ভুক্তভোগী সেলিম উল্লাহ নামের একজন বলেন, দালাল মোঃ আলী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের সর্বত্র সাধারণ মানুষদের বিভিন্ন ভাবে তার ফাঁদে ফেলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে বাহারছড়া ইউনিয়নবাসী দালাল মো. আলীর কারনে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে বাহারছড়া ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা
আবদুল জব্বার বলেন, মো. আলী নামে ব্যক্তিটি ভূমি অফিসে আসে মিডিয়া হিসেবে কাজ নিয়ে। সেই ভূমি অফিসের কোন কর্মচারী নই, এবং ভুমি অফিসের নাম ভাঙ্গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© টেকনাফ টিভি.কম | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৯ ওয়েব ডেভেলপার : ফ্রিল্যান্সার আজাদ খান