সংবাদ বিজ্ঞপ্তি :
যে কোন ধরনের মিউজিক ভিডিও, সাউন্ড রেকর্ড, ইসলামী সঙ্গীত, ওয়াজ মাহফিল ভিডিও এবং এডিটিং করার জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন- আজাদ খান, পরিচালক- একে ফিল্ম মাল্টিমিডিয়া, মোবা: 01878305010.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বংশ পরিচয়

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বংশ পরিচয়

টেকনাফ টিভি ডেস্ক:::

মধুমতির কোলঘেঁষে ছোট্ট একটি সবুজ গ্রাম টুঙ্গিপাড়া। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই টুঙ্গিপাড়াতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বংশীয় গোড়াপত্তন শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পূর্ব পুরুষেরা ছিলেন ইরাক থেকে আগত দরবেশ শেখ আউয়ালের বংশধর।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক সম্ভ্রান্ত উচ্চ বংশীয় ঐতিহ্যের ধারক ছিলেন। তিনি ‘শেখ’ বংশীয় উত্তরাধিকার বহন করে আছেন। ‘শেখ’ কথাটি এসেছে আরবি থেকে, যার সাধারণ অর্থ হচ্ছে, খুবই শক্তিশালী, বিপুল ক্ষমতাধর বা আভিজাত্য সম্পন্ন। এটি সম্মানসূচক এক আরবি অভিধা বা পদবি হিসেবেও পরিচিত। বিশেষ করে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতাবান শাসকদের পদবি হিসেবেও শেখ-এর ব্যবহার রয়েছে এবং সাধারণভাবে গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা মুসলমানদের কারো কারো পদবি হিসেবেও শেখ শব্দের ব্যবহার করা হয়।

ইতিহাস ঘেটে জানা যায় ১৪৬৩ খ্রিস্টাব্দের দিকে বায়েজিদ বোস্তামি (রহ:) এর সঙ্গী হিসেবে শেখ আউয়াল এ বঙ্গীয় এলাকায় ইসলাম প্রচারের জন্য আসেন। বায়েজিদ বোস্তামি (রহ:) একদিন শেখ আউয়ালকে নির্দেশ দেন মেঘনা পাড়ের এলাকায় গিয়ে ইসলাম প্রচার করার জন্য। গুরুর আদেশ মেনে শেখ আউয়াল চলে আসেন মেঘনা বিধৌত সোনারগাঁও-এ। বিয়ে করেন স্থানীয় এক বাঙালি কন্যাকে। জন্ম হয় শেখ জহিরুদ্দিন নামের এক পুত্র সন্তান।

পরবর্তীতে শেখ জহিরুদ্দিনের সন্তান তেকড়ী শেখ সোনারগাঁ ছেড়ে ব্যবসার উদ্দেশ্যে খুলনায় পাড়ি জমান। তেকড়ী শেখের সন্তান শেখ বোরহান উদ্দিন মধুমতি ও ঘাঘোর নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা টুঙ্গিপাড়া গ্রামটির কথা শোনেন তাঁর এক বন্ধুর কাছে। রূপসা নদী পাড়ি দিয়ে একদিন তিনি বন্ধুর সাথে চলে আসেন টুঙ্গিপাড়ায়। বিয়ে করেন কাজী পরিবারে, ঘর বাঁধেন চিরকালের জন্য। এভাবেই টুঙ্গিপাড়ায় শেখ পরিবারের গোড়াপত্তন ঘটে।

বোরহান উদ্দিনের ছিল তিন পুত্র সন্তান। তারা হলেন: শেখ আকরাম, শেখ তাজ মোহাম্মদ ও শেখ কুদরতুল্লা। শেখ আকরামের ছিল দুই ছেলে- শেখ জাকির ও শেখ ওয়াসিম। বঙ্গবন্ধুর দাদা শেখ আব্দুল হামিদ ছিলেন শেখ জাকিরের সন্তান। শেখ জাকিরের তিন ছেলে- শেখ আব্দুল মজিদ, শেখ আব্দুল রাসেল ও শেখ আবদুল হামিদ।

শেখ আবদুল হামিদের তিন ছেলে- শেখ লুৎফর রহমান, শেখ শফিউর রহমান ও শেখ হাবিবুর রহমান। ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ শেখ আব্দুল হামিদের ছেলে শেখ লুৎফর রহমানের ঘর আলো করে জন্ম নেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর মাতার নাম সায়েরা খাতুন।

শেখ লুৎফর রহমান ও সায়েরা খাতুনের চার কন্যা এবং দুই পুত্রের সংসারে বঙ্গবন্ধু ছিলেন তৃতীয় সন্তান। তার বড় বোন ফাতেমা বেগম, মেজ বোন আছিয়া বেগম, সেজ বোন হেলেন ও ছোট বোন লাইলী; তার ছোট ভাইয়ের নাম শেখ আবু নাসের।

১৯৩৪ সনে শেখ মুজিব ১৪ বছর বয়সে দূর সম্পর্কের চাচাতো বোন শেখ ফজিলাতুন্নেসার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বঙ্গবন্ধু ও শেখ ফজিলাতুন্নেসা দম্পতির ঘরে দুই কন্যা এবং তিন পুত্রের জন্ম হয়। কন্যারা হলেন শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা। আর পুত্রদের নাম শেখ কামাল, শেখ জামাল এবং শেখ রাসেল।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হলেও ওই সময় বিদেশে থাকায় বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। শেখ হাসিনার একমাত্র পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। অন্যদিকে শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও দুই কন্যা যথাক্রমে টিউলিপ সিদ্দিকী ও আজমিনা সিদ্দিক।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© টেকনাফ টিভি.কম | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৯ ওয়েব সাইট ডেভেলপার : আজাদ খান