টেকনাফে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে হুমকি অপহরণকারীদের, নিরাপত্তাহীন বাদীপক্ষ
টেকনাফ কক্সবাজার প্রতিনিধি:::
টেকনাফে একসাথে একই পরিবারের ১১ জনকে অপহরণের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর নিরাপত্তাহীন ও ঘরছাড়া হয়ে পড়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। প্রতিনিয়ত বিবাদী পক্ষের হুমকি ধমকিতে এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে বাদীপক্ষ ও তাদের স্বজনরা। তারা জীবনের নিরাপত্তা ও আশ্রয় চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ সকাল ৮ টার দিকে চিহ্নিত ও অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জন দুর্বৃত্ত মুক্তিপণ আদায়ের জন্য ধারালো দা, কিরিচ, লোহার রড ও পিস্তল সহ আরো বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সন্ত্রাসী বাড়ির ভেতর অনধিকার প্রবেশ করে নারী শিশুসহ একই পরিবারের এগারজনকে অপহরণ করে।এসময় তাঁদের বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁদের অপহরণের পর বন্দিশালায় জিম্মি করে রাখে।
পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করলে পুলিশ ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে একটি যৌথ বাহিনী দল হ্নীলা ইউনিয়নের আলীখালী এলাকা সহ আশপাশ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আলীখালী নয়া পাড়া এলাকার জাফর আলমের বসতঘর থেকে ভিকটিমদেরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে।
এসময় ঘটনাস্থলে যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চিহ্নিত ও অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
এতে ভুক্তভোগীদের পক্ষে মিনু আরা বেগম বাদী হয়ে
হ্নীলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা যথাক্রমে ছৈয়দ আলম, মেজর আলম, আনোয়ার হোছন, দেলোয়ার হোছন, জুনাইদ প্রকাশ টুনাইয়া,ইমান হোছন, ইলিয়াছ, বেলাল হোছন, আবুল হোসেন প্রকাশ ভুলু,
মোহাম্মদ,বশির আহমদ প্রকাশ গুরাপুতুন্না, ফিরোজ আহমেদ, প্রকাশ দয়াল্লা সহ আরো অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
এর পর থেকে বাদীপক্ষ ও স্বজনরা নিরাপত্তাহীন ও ঘরছাড়া হয়ে আছে।
রাজিয়া বেগম ও ছৈয়দ আলম বলেন, গত রবিবার বিবাদী পক্ষের জনৈক রিদুয়ানের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের গ্রুপ বা আধিপত্য বিস্তারে প্রতিনিয়ত মারামারি হয়। তাদের মধ্যে নানা অপকর্ম।
এতে আমরা নিরীহ মানুষ তাকে মারার প্রশ্নই উঠেনা। সুষ্ঠু তদন্তে করলে আসল রহস্য বের হবে।
তারা আরো বলেন, বিবাদীপক্ষ অপহরণের সময় বাড়িঘর ভাংচুরের পাশাপাশি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটপাট করে। এতে আইনের আশ্রয় নিলে তারা আমাদের প্রতিনিয়ত প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছে। সেইসাথে রিদুয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি করছে এ ভুক্তভোগী পরিবার।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, এই মামলার বিবাদী পক্ষের একজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। সেখানে এ বাদি পক্ষের অনেকেই রয়েছে। যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে, তাঁদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তবে নিরীহ কাউকে হয়রানি করা হবে না জানিয়ে ওসি বলেন, কেউ নিরাপত্তাহীন থাকবে না। পুলিশ সবাইকে নিরাপত্তা দিতে কাজ করছে বলেও জানান ওসি মো. গিয়াস উদ্দিন।